শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ সম্পর্কিত


ঐতিহ্যবাহী মুক্তাগাছা উপজেলায় ষাটের দশকের প্রথম দিকে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না। উচ্চশিক্ষার জন্য একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা ছিল মুক্তাগাছাবাসীর প্রাণের দাবি। এই দাবিকে বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে আসেন রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

১৯৬৭ সালে কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মুক্তাগাছা পৌর কমিউনিটি হলে (বর্তমান মুক্তাগাছা পৌর পাঠাগার) তৎকালীন পাকিস্তান পার্লামেন্টের সেক্রেটারি জনাব কেরামত আলী তালুকদারকে আহ্বায়ক করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। স্থানীয় জনগণের আর্থিক সহায়তায় ১৯৬৭ সালের মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরীর পরিত্যক্ত বাড়িতে অত্র কলেজের যাত্রা শুরু হয়। তখন এই কলেজের নাম ছিল মুক্তাগাছা কলেজ।

প্রতিষ্ঠালগ্নে ও পরবর্তী সময়ে অনেক শিক্ষানুরাগী অর্থ ও সম্পদ দিয়ে কলেজের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। দাতাদের মধ্যে অন্যতম জনাব চিন্তাহরণ সাহা ১৯৭৪ সালে কাজলকোনা ইউনিয়ন এলাকায় কলেজের জন্য ৪ একর ৪৩ শতাংশ জমি দান করেন। কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক মোঃ আবুল বাশার।

স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তাগাছা কলেজের ছাত্ররা মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং কয়েকজন ছাত্র শহীদ হন। উক্ত বীর শহীদ ছাত্রসহ সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে সদ্য স্বাধীন দেশে ১৯৭২ সালে তৎকালীন গভর্নিং বডির এডহক কমিটির প্রথম সভায় সভাপতি জনাব খন্দকার আব্দুল মালেক শহীদুল্লাহ’র প্রস্তাবক্রমে কলেজের নতুন নামকরণ করা হয় “শহীদ স্মৃতি কলেজ”।

কলেজের লেখাপড়ার মান, সুনাম ও ঐতিহ্য বিবেচনায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৮০ সালে কলেজটিকে জাতীয়করণ করেন এবং নতুন নামকরণ হয় “শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ”।

কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক (পাস) পর্যায়ে সুনামের সাথে পরিচিত হয়ে মুক্তাগাছাবাসীর উচ্চশিক্ষার দাবি পূরণ করে আসছে। কালের আবর্তে মুক্তাগাছাবাসীর প্রাণের দাবি অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে তাদের সন্তানদের অধ্যয়ন করানো। সে দাবি পূরণের লক্ষ্যে ২০১০–২০১১ শিক্ষাবর্ষ হতে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স কোর্স এবং ২০১৭–২০১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স (শেষ পর্ব) কোর্স প্রবর্তন করা হয়েছে।

এছাড়াও অত্র কলেজে রয়েছে সুযোগ্য ৫৩ জন শিক্ষক, সমৃদ্ধ বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরি ও অবকাঠামোগত সুবিধা।

নিয়মিত কার্যক্রম :
১. শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট পাঠদান পরিকল্পনা সরবরাহ ও সে অনুযায়ী পাঠদান।
২. প্রতি সপ্তাহে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় একাডেমিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন সম্পর্কিত পর্যালোচনা।
৩. শিক্ষার্থীদের পাঠের অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষা গ্রহণ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের অগ্রগতি সম্পর্কে অভিভাবক সমাবেশে অবহিতকরণ।
৪. সাময়িক পরীক্ষার বাইরে বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার পূর্বে মডেল টেস্ট গ্রহণ।
৫. নিয়মিত সহ-পাঠ্য কার্যক্রম।
৬. যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় দিবসসমূহ পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ।
৭. ডিজিটাল ক্যাম্পাস, মাল্টিমিডিয়া ও স্মার্টবোর্ড সমৃদ্ধ শ্রেণিকক্ষ, ওয়াই-ফাই, সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও কলেজের নিজস্ব ওয়েবসাইট অন্তর্ভুক্তিকরণ।
৮. যে কোনো অভিযোগ ও পরামর্শ জানানোর জন্য ওয়েবসাইটে কর্নার রাখা এবং প্রত্যেক শিক্ষকের সাথে মোবাইল, ই-মেইল এবং ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতিদিন যোগাযোগের ব্যবস্থা।
৯. শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে।

কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে বাস্তবায়নের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।